তমোনাশ বাংলা ভাষাসাহিত্য ও ইতিহাসে স্নাতকোত্তর। যুক্ত আছেন ভাষা চর্চার বিষয়ে। বাংলা, হিন্দি, উর্দু, সংস্কৃত ও উর্দুর পর তাঁর এখনকার চর্চা জার্মান ও মারাঠি ভাষা। ভাষাচর্চার মাধ্যমে দুনিয়াব্যাপী জীবনচর্চার মৌলিক একত্ব খুঁজে নিতে চান তমোনাশ।

তিনি বঙ্গীয় সঙ্গীত সমিতি থেকে সঙ্গীত ভাস্কর হিসেবে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং স্বর্ণপদক পান। চণ্ডীগড় প্রাচীন কলা কেন্দ্র থেকে সঙ্গীত প্রভাকর হিসেবে পান রৌপ্য পদক। এছাড়াও ভারতবিখ্যাত ভাতখান্ডে মিউজিক কলেজের সর্বোচ্চ পরীক্ষা সঙ্গীত নিপুণ পরীক্ষাও তিনি সফলভাবে উত্তীর্ণ।

সাম্প্রতিক লেখা

ছোটগল্প

আবদ্ধ

সিট  সালা!! সকাল বেলাই মোটাটা এসে বসেছে । একটু দম নিতে পারছিনা । রোজ সকালে ট্রেন থেকে নামবে সবার পেছনে । কেউ তো সামনে আসতেই দেয় না ওটাকে । আটকে দেয় তো পুরো ! শেষে হ্যাঁচড়াতে হ্যাঁচড়াতে নেমে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড়বে । ও ভাবে দৌড়াচ্ছে কিন্তু লোকে মোটেই ভাবেনা । এখন তাও সেই মেশিনের সিঁড়ি হয়েছে , ওতে করে এক নম্বর প্লাটফর্মে নেমে তবে বাইরে আসে । ছুটে এসে ধপ করে বসে পড়ে  । আমি রোজ আড়ে আড়ে তাকাই । ভগবানকে ডাকি । পাশেই দু’চারটে মন্দির নতুন হয়েছে । ‘আজ যেন মালটা না আসে ,  কামাই করে’ । কিন্তু কামাই করে না । হাঁপাতে হাঁপাতে ঠিক আসে । টেরা মাল । কিন্তু ঠিক দেখি একই জায়গায় বসে পড়ে ।

Read More »
ছোটগল্প

স্বপন

পাড়ার স্বপন । সামনে মামা , আড়ালে পাগলা । আমাদের কাছে তার বিশেষ পারিবারিক খাতির । শুনেছি আমাদের আবির্ভাবের আগে বাড়িতে গরু ছিল । স্বপন মামা , মামাই বলব পরে অসুবিধা হলে অন্য কথা বলা যাবে , বাড়িতে সকালের দিকে আসত । গরুর খানিক যত্ন-আত্তি করে , পুরনো আমলের গভীর ইন্দ্রাগার থেকে বেশ ক’বালতি জল তুলতো । তারপর জল খাবার টাবার খেত । আমরা জ্ঞানত তাকে দেখেছি পুরোদস্তুর বাড়ির অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কাজের লোক হিসেবে । আমাদের বিছানাতোলা , ঘরমোছা , কাপড়কাচা , উঠোনঝাঁট , প্রয়োজনে মাঝারি কুড়ুলে করে কাঠ চেরাই , লন্ড্রী , যাকে স্বপনমামা এবং আমরা অনেকেই বলতাম ডাইংকিলিং , জামাকাপড় মারবার ফন্দি বোধহয় , সেখানে কাপড় দেওয়া-নেওয়া , অবরে সবরে ঘরের ঝুলঝাড়া ইত্যাদি বহুতর ও বহু ধরনের কাজ

Read More »
কবিতা

পুনর্জন্ম

দু চারটে অপেক্ষার প্রবল প্রবাহ কেটে গেলেভাবিমধ্যরাতে পাইকারি বাজারেরনিঃশব্দপ্রায় কায়িকওগৎবন্দি ব্যস্ততার রাগ , ধুলো ,জমা আলো,ব্যবস্থার বোতলবন্দি গালাগালের ভূতকে ছেড়ে দিই।ওরই বিঁধবার ক্ষমতায় শেষে একদিন নিজেকেই শেষ করবে ।তুমি, তোমরা, আপনি, আপনারা মুখপোড়া বেগুনের দলচোরাচ্যাপ্টা রোদ্দুরের গ্রহণে এলিয়ে একাদশী করেছি দুর্বার মানবিকতায়।অনর্থক শব্দকে বৈষ্ণব বিনয়ের সাথে গঙ্গাসই করে দিলে ঘনঘোর ভবিষ্যতের খোলা একটা ছালছাড়ানো লাশ ডুগডুগি নাচে ।আরেকটা নিপাতনে সিদ্ধ বা অসিদ্ধ বা সুসিদ্ধ কাব্য তোতলায় দোতলায় কালো হাঁড়ির ভেতর।আমি ভিতরে যাই, ঘরবাড়ি দেখি,কদমতলা বস্তির সামনে ফুলের বাজার রোজচৌরস হয়ে গাঁদার বিশ ডেস্স ডেস্স চিল্লোয় ।আমার অস্তিত্ব নেহাৎ কতোগ্গুলো পরিপার্শ্বের পারিপাট্যে পাটের ফেঁশোর মত আটকে ঘোরে।কোথাও উড়ে গেলে আবার ফুঁ খায় ।এই বেশ ভালো কিম্বা মন্দ বা মেশামেশি বা আপাত বা অন্য যা কিছু পিকাসো চার্বাক সিন্দবাদ যাই বলুনআরেকবার ঘুরে এসে দেখব ।

Read More »
ছোটগল্প

নিরর্থক

জ্যোৎস্নালোকিত রাত্রিতে কুয়ার ধারে দাঁড়াইয়া সে তাহার তিন মাস সতেরো দিন বয়সী মাজা রংয়ের নধর পুত্রসন্তানটিকে প্রগাঢ় চুম্বন করিল ।  হে প্রাণপ্রিয় সস্তা খেউরের রসিক পাঠক , আমাদের ফট করে ফুটে উঠে ঝপ করে ফুরিয়ে গেল গল্পমালার উনপঞ্চবিংশৎ গল্পে আপনাকে স্বাগত জানাই । এ গল্প এমন একটি মেয়ের দাঁত ওঠার আগে যার নামকরণ হয়নি । নগা মন্ডলের ষষ্ঠ কন্যার নামের প্রয়োজন বহুদিন অনুভূত হয়নি । কারণ কেউ তাকে ডাকতো না । দাদু ঠাকমা তার বহু আগে জগত মদ্যের মায়া ত্যাগ করায় আদর করার কেউ অবশিষ্ট ছিল না । তাই শোয়া থেকে উল্টোনো , উল্টোনো  থেকে কুক্কুরীমুদ্রা , কুক্কুরীমুদ্রা থেকে হামাগুড়ি হয়ে হাঁটা পর্যন্ত তার মা ভিন্ন কেউ খেয়াল করলো না । খেয়াল করলো দাঁত ওঠার সময় । উপরের মাড়ির সামনের

Read More »
ছোটগল্প

জীবন-বকুল

বেঁটেহাবুর বাবা শ্রীযুক্ত কানাজীবন ডাকের কর্মী । প্রতিদিন চুঁচড়ো অফিস । জনশ্রুতি যে ডাকঘরের দেয়াল হবার ইঁট থেকে প্রতিদিন দুহাতে দুটো বয়ে এনে পাড়ার রাস্তা থেকে বাগানটাকে তিনি আলাদা করেন । স্ত্রী পদ্মরানি দজ্জাল ও জাঁদরেল । তাঁর প্ররোচনায় পূর্বোক্ত হাবু একদিন পিতা-পুত্র সংঘাতে অরণ্যদেব হন । ঘুঁষির ধাক্কায় আংটির ক্ষত বসান জীবনবাবুর ডান চোখের ওপর । তাই ‘কানা’ । আসলে অঙ্গুরিঘাতে ডান চোখের উপরের মাংস খুলে খানিকটা ঝুলে গেছিল । ওরম দেখাতো । জগদ্ধাত্রী পুজোয় ধুম খুবই বেশি । ছোটবেলায় দেখেছি বিরাট ভাঙ্গা খিলানের এক পূজাগৃহ । আগাছাধিকৃত । খিলানের বহর তার এককালীন উজ্জীবনের স্মরণ । এখন যেখানে পুজো হয় সেটা ছোট ছোট তিনটে খিলানে ভাগ করা ফুট পনেরো উঁচু একটা কোঠা । কড়িবর্গার আলকাতরা আর দেওয়ালের অ্যালা সন্ধ্যের

Read More »
কবিতা

নিঃস্ব

নিঃস্ব ও অফলের বার্ধক্যের জন্মদিন পালনের বিলাসিতার মত প্রেম এসে নীল বিড়ালের মত গ্যাঁট হয়ে বসল ব্যাবিলনের শূন্যদ্যানের বারান্দায় । পিসার হেলানে মিনারের চেয়ে অনেক বেশি হেলানো যৌবনের গ্রাফের স্বতাস্তচলগামিতাকে , এসো কাব্যে বাঁধি। কাছে গেলে তাজের আকার যেমন আকাশের গায়ে দানবের মতো ফুলে ফুলে বাড়ে ….. আমার আক্রোশে বাড়ে রাত। নিদ্রাহীন, এলানো ।অনতিদূরের দোতলার ঘোরানো সিঁড়িঘরে জ্বলে তীব্রতা …. অথবা তিনতলার !!! কে জানে!কতখানি তীব্র রাগ হলে ছাতিম ফুলের গন্ধের গায়ে কর্কের ছিপির কারুকার্য ওঠে ফুলে !! নিম্ন চাপের জল লেগে কর্কের ফাঁক ফুটো বোঁজে ।কেউ কি দূর দিয়ে ট্রেনের পাদানীর নোংরা খবরের কাগজের মত উড়ে উড়ে ডাকে খালি? পাশের পোস্টে ধাক্কা খায় ? চোখ উল্টে , ঘিলু ছেতড়ে ‘ ডাকে বার বার ডাকে ?। হঠাৎ সেদিন সন্ধ্যায় বিফল

Read More »
© 2024 Tamonash Chattopadhyay
Designed with Love by ArtFolio